অধ্যক্ষের বাণী
বান্দরবান পাবর্ত্য জেলায় অবস্থিত মায়নমার সীমান্তবতীর্ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একমাত্র সবোর্চ্চ বিদ্যাপীঠ হাজী এম. এ. কালাম সরকারি কলেজ। বিশিষ্ট দানবীর হাজী এম. এ. কালাম ১৯৯৫ খ্রিঃ ৭.৯০ একর জমি ও প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে অত্র কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রতিষ্ঠার পর হতে এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে অতুলনীয় অবদান রেখে আসছে। উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পযার্য়ে সুনামের সাথে দেশের সেবায় নিয়োজিত আছে। বর্তমানে এই কলেজে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক(পাস) বর্ষে প্রায় ১,৫০০(দেড় হাজার) ছাত্র—ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতকরা ৭০ জন ছাত্র—ছাত্রী শিক্ষা—দীক্ষায় অনগ্রসর ও আর্থিক ভাবে খুবই পশ্চাৎপদ এবং নৃ—গোষ্ঠী সম্প্রদায়ভূক্ত । অত্র এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের উচ্চ শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হাজী এম.এ. কালাম সরকারি কলেজ।
আমি ১৯৯৪ সালে বি.এ(অনার্স) এম.এ, এল.এল.বি পাশ করে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই শিক্ষক হিসেবে চাকরী করছি। ১১/১০/২০০১ খ্রিঃ হতে ২৭/১১/২০০১ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত বান্দরবান জেলা প্রশাসক কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে ছিলাম। ঐ সময় সাবেক অধ্যক্ষ আমার শ্রদ্ধেয় স্যার প্রফেসর সালেহ আহমদ এর সহযোগীতায় অত্র কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ, ডিগ্রি কোর্স চালু করে ছিলাম; এতে আমি দেড় লক্ষ আর্থিক সহায়তা করে ছিলাম। পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য ছাত্র—ছাত্রীর সংকট দেখা দিলে কক্সবাজার, রামু বিভিন্ন এলাকা হতে ছাত্র—ছাত্রীদের অত্র কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য সুব্যবস্থা করে দিতাম এবং তারা আশানুরূপ ভালো ফলাফল করত।
বিগত ৩১/১২/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে সাবেক অধ্যক্ষ ও.আ.ম. রফিকুল ইসলাম অবসরে চলে যান। আমি প্রতিষ্ঠালগ্ন শিক্ষক এবং জ্যেষ্ঠতার দিক বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ১/১/২০২৪ খ্রিঃ তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেন। আমি আমার দায়িত্বকে আন্তরিকতার সাথে পালনের চেষ্টা করছি।
আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে ক্লাস নিয়মিত করে ছাত্র—ছাত্রীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের দিকে মনোযোগ দিই। ছাত্র—ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করি। শিক্ষক,কর্মচারী এবং ছাত্র—ছাত্রীদের জন্য স্মার্ট হাজিরা চালু করি, প্রত্যেক ভবনে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের জন্য আইপিএস সেটআপ, পানির সুব্যবস্থার জন্য পিউরিফাই ফিল্টার, সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের জন্য হাইস্পিড ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করি। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সুবিধার জন্য নিজস্ব ফটোকপি মেশিন ক্রয়, কলেজের পুরো ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করি। পুরো ভবন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হাইজেন লাইট লাগানো, ছাত্র—ছাত্রীর জন্য রুচি সম্পন্ন ক্যান্টিন চালু। এবাদতখানা চালু ও নামাজের জন্য হাফেজে কোরআন ইমাম নিয়োগ প্রদান, মহিলা হোস্টেলের জন্য বুয়া নিয়োগ প্রদান। মূল গেট থেকে ছাত্রী নিবাস পর্যন্ত চলাচলের রাস্তা সংস্কার।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হলো:
ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা কমন রুম ও নামাজের ব্যবস্থা। প্রত্যেক ক্লাসে ক্যাপ্টেন নিয়োগ, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট এর কার্যক্রম গতিশীল করা। আন্তঃ ক্রীড়া ও অন্তঃ ক্রীড়া চালু, শিক্ষাসফরের আয়োজন, কম্পিউটার ল্যাব চালু করা, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব চালু করা, ছাত্রাবাস চালুকরা। ক্যাম্পাসের দক্ষিণের টেন্ডারকৃত বাউন্ডারি ওয়াল দ্রুতই নির্মাণ হবে। ছাত্রী নিবাসের জন্য একজন মহিলা হোস্টেল সুপার নিয়োগ করা হবে।